শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন, শক্তিশালী গণমাধ্যমের বিকল্প নেই: মির্জা ফখরুল প্যারাসেইলিং মালিক ফরিদ ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগের উঁকিঝুঁকিকে গুরুত্ব দিচ্ছেনা সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈকতে পানিতে ডুবে শিক্ষার্থীর মৃত্যু সৌদিতে এরদোগান-সালমান-শাহবাজ ত্রিপক্ষীয় বৈঠক, হতে যাচ্ছে কি প্রতিরক্ষা চুক্তি? যে কারণে ইসলামে চুপচাপ থাকাও ফজিলতপূর্ণ নতুন তালিকা হবে ইয়াবা কারবারিদের, অপহরণ রোধে বসবে দুই সেনা ক্যাম্প: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাইক্ষ্যংছড়িতে মালিকবিহীন বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার পেকুয়ার মগনামায় ওযু করতে গিয়ে মসজিদের ইমামের মৃত্যু তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ফারুকের ডিলার ব্যবসা, উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ

পিএমখালীতে বলী খেলার নামে চলছে জুয়া খেলা

এম এ সাত্তার:

তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ জনজীবন। গায়ে জামা কাপড় খুলে ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন জনৈক আরাফাত হোসেন। মৃদু স্বরের উহু আহ শব্দ আর মাথা চাপড়াচ্ছেন। কাছে গিয়ে জানা গেল, জুয়ায় সর্বস্ব হারানোর পর তার এই কাহিল অবস্থা। ঘটনা কী জানতে চাইলে বলেন, ডিসি সাহেবের খেলার দিনে জুয়াখেলে আড়াই হাজার টাকা পেয়েছিল। সে থেকে লোভে এসে যায় তার মধ্যে।তাই বিগত ৬ দিনের খেলায় পাওয়ার আশায় গরু বিক্রির টাকা সহ হারিয়েন চল্লিশ হাজার টাকা। কাল দিলাম ৫ হাজার, আজ গরু বিক্রি করে দিলাম ২৫ হাজার।এর আগে গত ৪ দিনে হারিয়েছে ২০ হাজার টাকা। এখন বাড়ি যাব কী কিভাবে ? কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের চেরাংঘর বাজারের উত্তরে,ও পরনিয়া পাড়া গ্রামে পরপর ৪দিনের শেষ দিনের বলী খেলায় দেখা গেল এ দৃশ্য।আরাফাতের মতো বহু মানুষ প্রতিদিনই বলী খেলার আদলে জুয়া খেলায় সর্বস্ব খোয়াচ্ছে। ইউনিয়ন পিএমখালীর মতো জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে বসছে বলী খেলার বিপরীতে জুয়ার আসর। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে চলছে জুয়ার রমরমা ব্যবসা। গ্রামের ঐতিহ্যবাহী বলী খেলার নামে মেলার আয়োজন করে বসানো হয় জুয়ার বোর্ড।

তোতকখালী এলাকার বলী খেলা ও জুয়ার আয়োজক কমিটির এক সদস্য বলেন, এলাকায় অনেকদিন এসব হয় না। তাই ছেলেরা আয়োজন করেছে। খেলায় জুয়া কেন? জানতে চাইলে বলেন, ‘খেলা চালাতে হলে টাকার দরকার। জুয়া থেকে সংগ্রহ করা টাকা দিয়ে বলী খেলা আর প্যান্ডেলসহ অন্যান্য খরচ চালানো হয়।

জানা যায়, সংঘবদ্ধ পেশাদার জুয়াড়ি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য এলাকার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। এসব জুয়াড়িরা বলী খেলা ও বৈশাখী মেলার অনুমোদন নিয়ে জুয়াখেলার আয়োজন করে সাধারণ মানুষের টাকা-কড়ি হাতিয়ে নিচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ সহ বিশ্বব্যাপী করোনা রোগের প্রাদুর্ভাব এর কারণে বিগত ২/১ বছর বন্ধ ছিল এই খেলা। প্রতিবছর এ সময়ে এলাকার কতিপয় জুয়াড়িদের সক্রিয় হয়ে উঠতে দেখা যায়। কিছু চিহ্নিত ব্যক্তি প্রশাসন থেকে বৈশাখী মেলার অনুমোদন গ্রহণ করে। পরে সংঘবদ্ধ জুয়াড়িচক্র ঢাকঢোল পিটিয়ে মাইকযোগে বলী খেলার নামে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এলাকার সচেতন মহল অভিযোগ করে জানান, কথিত বলী খেলায় নামমাত্র খেলার আয়োজন করে আয়োজক কমিটি হরেক রকমের জুয়ার আসর বসায়।

সরেজমিন দেখা যায়, ৬ গুটি, ৩ গুটি, ৩ তাস, চরকা, রেফেলড্র সহ বিভিন্ন রকমের পাতানো ফাঁদ বসিয়ে সর্বসাধারণকে অভিনব কায়দায় জিম্মি করে তারা টাকা হাতিয়ে নেয়ার ফাঁদ পেতে বসে আছে।এতে কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধরা জুয়া খেলায় মেতেছে। মানব প্রাচীর ঘেরা প্যান্ডেলের ভেতর চলছে ৬ গুটি,৩ গুটির জুয়া। মানুষ ওই মঞ্চের চারদিকে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার টাকা ধরছে জুয়ায়। তার পাশেই প্যান্ডেলের বাইরে একাধিক জায়গায় বসেছে হরেক রকমের জুয়ার আসর। সেখানে বহু মানুষ ভিড় করে দাঁড়িয়ে জুয়ায় ধরছে হাজার হাজার টাকা।এক ব্যক্তি সাথে কথা বললে সে এ বিষয়ে কিছু বলতে চাইনি। পরে পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানান প্রশাসনের সঙ্গে চুক্তি করে পাড়াপাড়ায় ধারাবাহিকভাবে এসব কথিত বলীখেলা চালিয়ে যাচ্ছে একটি অসাধু চক্র।

ডিসি’র বলী খেলার পর থেকে চলিত মাসে ৪নং ওয়ার্ড চেরাংঘর বাজারের উত্তরে ২দিন এবং এরপর তার যৎসামান্য উত্তরে ৫ শ ফুটের ব্যবধানে পরনিয়া পাড়াতে ২দিন মোট ৪ দিন বলী খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আবার ২২ ও ২৩ মে রবিবার, সোমবার ৩ নং ওয়ার্ড তোতকখালীতে মেম্বার মিজানুর রহমানের নামে বলী খেলা শেষ হয় গতকাল। আবার মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতিবার ৩দিন বাংলা বাজার এলাকায় চলবে। এই লক্ষ্যে গতকাল মাইকিং করা হয়েছে। আর ১, ২ নং ওয়ার্ড ছনখোলা গ্রামেও ইতিপূর্বে বলী খেলার প্রস্ততি গ্রহণ করেছে বলে সূত্রে জানা গেছে। এভাবেই পর্যায়ক্রমে পিএমখালীর প্রতিটি ওয়ার্ডে বলী খেলা নামে জুয়াখেলা বাধাহীনভাবে চলছে, চলবে। প্রশাসনের কোন বাধা নিষেধ নেই, আছে সহযোগিতা।

জানতে চাইলে কক্সবাজার সদর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মনিরুল গীয়াস বলেন, দেশের কোন খেলা নিষিদ্ধ না, প্রত্যেক বৈধ খেলার জন্য পারমেশন দেয় প্রশাসন। কিন্তু কেউ বৈধ খেলার অনুমতি নিয়ে আড়ালে অবৈধ খেলা চালাচ্ছে কিনা খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION